রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২
১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাসী কৃতজ্ঞচিত্তে মনে রেখেছেন মধুসূদন দত্তকে

অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: বৃহস্পতিবার, জুন ৩০, ২০২২

বিশ্ববাসী কৃতজ্ঞচিত্তে মনে রেখেছেন মধুসূদন দত্তকে
ইংরেজি সাহিত্য থেকে ছিটকে পড়ে বন্ধু মহলের পরামর্শে শেষ অবধি বাংলাভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বাংলা সাহিত্যকে উপহার দেন শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী, মেঘনাদবদ কাব্য, চতুর্দশদপদী কবিতাবলীর মতো বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম। বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের এই পথিকৃৎ জীবনকে আবিষ্কার করেছেন নিদারূন দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়ে। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্যেও অসামান্য অবদান রাখায় বিশ্ববাসী এই ধীমান কবিকে মনে রেখেছে কৃতজ্ঞচিত্তে।

সাগরদাঁড়ি গ্রাম আর পাশে বয়ে চলা স্রোতস্বিনী কপোতাক্ষ নামটি মুখে আসলেই যার কথা মনে পড়ে তিনি আর কেউ নন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার, বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক কবি, প্রথম সার্থক নাট্যকার। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার পথ নির্মাতা। এছাড়া বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা এবং বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের পথিকৃৎ এই মহাকবি।

মধুসূদনের শৈশব, কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে।  এ কারণেই স্রোতস্বিনী কপোতাক্ষের বয়ে চলা ধারাকে মায়ের দুধের সঙ্গে তুলনা করে রচনা করেছেন বিখ্যাত সনেট ‘কপোতাক্ষ নদ’। মধুসূদন মহাকবি হওয়ার স্বপ্নে বিলেত যাওয়ার সুবিধার জন্য ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। এতে তাকে ত্যাজ্যপুত্র করা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় ছদ্মনামে কবিতা লিখতে থাকেন। কয়েকটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ও সম্পাদকীয় বিভাগেও কাজ করেন। একই বছর বিয়ে করেন রেবেকা ম্যাকটাভিসকে। তাকে হিন্দু কলেজ থেকে বিতাড়িত করা হয়। পরে তিনি শিবপুরের বিশপ কলেজে ভর্তি হন।

ছেলেবেলায় নিজ গ্রামের এক পাঠশালায় মাওলানা লুৎফর রহমানের কাছে শিশু মধুসূদন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পাশাপাশি গৃহশিক্ষক হরলাল রায়ের কাছে বাংলা ও ফারসি ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন । আর জাহ্নবী দেবীই শিশু মধুসূদনকে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে পরিচিত করে তোলেন। সাগরদাঁড়িতে বাল্যকাল অতিবাহিত করে ১৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় যান। কৃতী ছাত্র হিসেবে তার সুনাম ছিল। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি নারী শিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে স্বর্ণ পদক লাভ করেছিলেন।

এত এত কৃত্বিত্বপূর্ণ জীবন যার সেই মহাকবির শেষ জীবন ছিল ভয়ংকরভাবে অর্থাভাব, ঋণগ্রস্ত। অসুস্থতায় তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। যে সময়টাতে তার পাশে দ্বিতীয় স্ত্রী ফরাসি নাগরিক হেনরিয়েটা ছাড়া আর কেউ ছিল না। গ্রিক, ল্যাটিন, সংস্কৃতি ভাষায় পারদর্শী এই কবি এক পর্যায়ে বাবার অর্থ সাহায্য থেকেও বঞ্চিত হন।  মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত চাওয়া পাওয়াসহ সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন মাত্র ৪৯ বছর বয়সে হাসপাতালে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
0 Comments