রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২
১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল বন্দর রেল স্টেশনে অবকাঠামোর অভাবে কমছে রাজস্ব

অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: সোমবার, আগস্ট ২২, ২০২২

বেনাপোল বন্দর রেল স্টেশনে অবকাঠামোর অভাবে কমছে রাজস্ব
প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে বেনাপোল বন্দর রেল স্টেশন দিয়ে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সড়কপথে মালামাল আনতে ব্যবসায়ীদের তুলনামূলকভাবে বেশি খরচ হচ্ছে। এতে লোকসানের পাশাপাশি রেলপথে রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে।

সড়কপথের ভোগান্তি আর হয়রানি থেকে বাঁচতে ২০২০ সালের জুন থেকে ভারতের পেট্রাপোল ও বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি বাণিজ্য চালু হয়। এর মধ্যে রয়েছে, পাথর, জিপসামজাতীয় পণ্য, গার্মেন্টস, কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, খাদ্যদ্রব্যসহ সব ধরনের পণ্য। পণ্য পরিবহনে প্রতিদিন বন্দরে আসছে কার্গো রেল, সাইডোর কার্গো রেল ও প্যার্সেল ভ্যান।

কিন্তু রেল স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী ইয়ার্ড না থাকায় দিনের পর দিন পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এতে সময়মতো বন্দরে ঢুকতে পারছে না পণ্যবাহী রেল। এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিবন্ধকতায় আমদানি বাড়ছে না। এতে লোকসানে পড়ছেন আমদানিকারকরা।

এ বিষয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক চেকপোস্টবিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহামুদ বিপুল বলেন, একটি পণ্য খালাস করতে এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। ফলে এখানে অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। তাই পণ্য খালাস করার জন্য জরুরিভাবে এখানে ইয়ার্ড তৈরি করা হোক।

এ অবস্থায় বন্দরে কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপনসহ অবকাঠামো বাড়ানো হলে বাণিজ্যে আরও গতি ফিরবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ফেডারেল অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, যদি কনটেইনার অপারেশন্স কমলাপুরের মতো করা হয়, তাহলে বেনাপোল বন্দরে প্রচুর পরিমাণে আমদানি-রফতানি বাড়বে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক আব্দুর জলিল বলেন, স্থলবন্দরের রেলওয়ে অবকাঠামো বাড়ানো হলে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে সময় এবং ব্যয় সাশ্রয় হবে।

তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান বেনাপোল রেল স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, বেনাপোল ইয়ার্ড বাড়ানো দরকার। তাই কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থবছরে রেলপথে ৩ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যা ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন কম। আর রাজস্ব আদায় কমেছে ৫৫৯ কোটি টাকা।
0 Comments