শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২
২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বড়লেখায় মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

বড়লেখায় মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার রতুলী বাজারে ‘মামা-ভাগ্নে' নামে খসাইখানায় মরা গরুর মাংস বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (০২ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে ওই মাংস জব্দ করা হয়।

তবে বিষয়টি জানতে পেয়ে মাংস বিক্রেতা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে এ মাংসগুলো মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসাইন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি বড়লেখা উপজেলার রতুলী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে গরুর মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। জানা যায়, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বারইগ্রাম এলাকা থেকে তিনি মৃত গরু জবাই করে কৃত্রিম রক্ত মিশিয়ে মাংস বিক্রি করছেন। সকালে বারইগ্রাম থেকে একটি মৃত গরু জবাই করে রতুলী বাজারে বিক্রির জন্য মাংস নিয়ে আসেন। এতে স্থানীয় লোকজন গোপনে বিষয়টি জানতে পেয়ে মাংসসহ তাকে আটকে রাখেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি অবগত করেন।

এ খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলামের নির্দেশে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. রেদুয়ানুল হক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসাইনের নির্দেশে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস সহিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তল্লাশি চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় মাংস থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকে বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে মাংসগুলো মাটিচাপা দেয়া হয়। তবে মৃত গরুর মাংস বিক্রেতাকে আটক করা যায়নি।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসাইন জানিয়েছেন, লাইসেন্স ছাড়া পশুর মাংস বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। তাছাড়া পশু জবাইয়ের আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ছাড়পত্র নিতে হয়। এক জেলায় জবাই করা পশুর মাংস অন্য জেলায় নিয়ে বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। এ মাংসের দোকানেরও লাইসেন্সও ছিল না। স্থানীয় লোকজন মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ করায় এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রাথমিক পরীক্ষায় মৃত মনে হওয়ায় মাংসগুলো মাটিচাপা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. রেদুয়ানুল হক, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস সহিদ, রতুলী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম সাজু, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছয়দুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
0 Comments