শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে : নানক

অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে : নানক
সাড়ে পাঁচ বছর পর আগামীকাল বুধবার (৭ ডিসেম্বর) এক দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানী-পাটোয়ারটেক সৈকতে অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নৌশক্তি প্রদর্শন মহড়ার উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে দুপুর আড়াইটায় সৈকতের লাবনী পয়েন্টের কাছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এই জনসভাকে কেন্দ্র করে পাল্টে গেছে সমুদ্র নগরীর চিত্র। বিভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে নগরকে। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে শহরের প্রতিটি প্রান্তে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন ও জনসভাকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। জনসভাস্থলে ৫ স্তরের এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারবাসীকে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উপহার দেবেন। অবশ্য কক্সবাজারবাসী না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন। আর সে অনুযায়ী কক্সবাজারের ব্যাপক ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে ও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী জেলায় ২৮ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ১ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এদিকে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জনসভার মঞ্চ পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কক্সবাজারের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। লাখ লাখ মানুষ উপস্থিতি হবে পুরো শহরে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, শুধু জনসভাস্থল শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নয়, এর আশপাশের পুরো কক্সবাজার শহরে জনসমাগম হবে। এবারের জনসভায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের জমায়েত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে তিন লাখের বেশি মানুষ অবস্থান করতে পারবে। এছাড়াও সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাহারছড়ার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, হলিডের মোড়, শহীদ স্মরণী এলাকা, কলাতলীর হোটেল মোটেল জোন হয়ে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত মানুষ জমায়েত হবে। জনসভার ভাষণ প্রচারের জন্য পুরো এলাকাজুড়ে দুই শতাধিক মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুর ইসলাম চৌধুরী বলেন, জনসভাকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা ইতোমধ্যে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। সমাবেশস্থল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। কয়েক লাখ মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করতে কক্সবাজার শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পশ্চিম একাংশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া শেষ । স্টেডিয়ামের মাঠ  সমাবেশে আগত লোকজনের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

জনসভার মঞ্চটি নৌকার আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। সাড়ে পাঁচ বছর আগে ২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ কক্সবাজার এসেছিলেন। ৭ ডিসেম্বর আবার তিনি কক্সবাজার সফরে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কক্সবাজার শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর তোরণে। চলছে মাইকিং। ভেন্যুসহ পুরো শহর সমাবেশস্থলে পরিণত করতে গত ৭ দিন ধরে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, এই জনসভায় স্মরণকালের জনসমাগম ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে জেলাজুড়ে।

এদিকে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শুনতে এক দিন আগেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কক্সবাজার শহরের জড়ো হতে শুরু করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসতে দেখা গেছে। তাদের মিছিল আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো কক্সবাজার শহর।
0 Comments