মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪
৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কপোতাক্ষ নদবক্ষে নড়বড়ে সাঁকোটিই ২ জেলা বাসীর একমাত্র ভরসা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৪

কপোতাক্ষ  নদবক্ষে  নড়বড়ে  সাঁকোটিই  ২ জেলা বাসীর  একমাত্র  ভরসা
এম.এম হায়দার আলীঃ
মহাকবি  মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ । আর সেই  নদবক্ষে অর্থাৎ  যশোরের কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী নামক স্থানে। আবারো  মৃত প্রায় কপোতাক্ষ নদের উপর তৈরী করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। যা মিলিত হয়েছে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সংযোগ সাঁকো হিসেবে।দু’পারের এলাকাবাসী মিলে নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি সাঁকোটিতে। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হওয়ার বিষয়টি লক্ষণীয়।  প্রতিদিন  এই নদ  অববাহিকায়  বসবাসরত  ১০ গ্রামের জনসাধারণ সহ অন্য জেলা- উপজেলা হতে আগত প্রায় দেড় লাখ মানুষ। নড়বড়ে এই সাঁকোর উপর দিয়ে ভয়ে, ভয়ে যাতায়াত করে থাকে বলে জানা গেছে । বর্তমানে  যাতায়াতের ভরসা সেই বাঁশের সাঁকোটি এখন  একরকম মরন ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘ বছরের জেঁকে বসা এই দুর্ভোগ লাঘবে  স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়ে আসলে ও। অনিবার্য কারন বশত   তাদের সেই প্রাণের দাবি বারংবার  উপেক্ষিত হওয়া সহ অদ্যবধি পর্যন্ত  কোন আশার আলো দেখেনি।সাঁকো দিয়ে পারাপাররত পথচারী বজলুর রহমান (৬০)জানান, মাঝে মধ্যে সাইকেল, মোটরসাইকেল ও মোটর চালিত ভ্যান পারাপারের সময় নদীতে পড়ে যাওয়ার মত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো দিয়ে চাঁদড়া, বেগমপুর, মির্জানগর, সাতবাড়ীয়া, বরণডালি এবং কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া, যুগিখালী, সলিমপুর ত্রিমোহনীর লোকজন পারাপার হচ্ছে। আবার অনেকেই ত্রিমোহনী বাজারে ব্যবসার কাজে আসেন। তা ছাড়া দু’পারের কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বেশির ভাগই বিক্রির জন্য এ বাজারে আনা হয়।অন্যদিকে কলারোয়া  উপজেলার  চার গ্রামে বসবাসকারী  মানুষদের বাধ্য হয়েই  কপোতাক্ষ নদের উপর ঝুঁকিপূর্ণ ওই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। একই সাথে  হাঁটবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া করার বিষয়টি নতুন কোন খবর নয়। সাঁকোর ওপর দিয়ে বিভিন্ন ভারী মালামাল বহন করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের পড়তে হয় চরম বিপাকে। একই সাথে  স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদেরও নিয়মিত এই সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি অনেক বেশি নড়বড়ে হয়ে যায়। এছাড়া এখানকার মানুষের চাল, ডাল, তরিতরকারি সহ সাংসারিক সকল মালামাল কেনাকাটার একমাত্র মাধ্যম এ  বাজারটি অনেক পুরনো। তারপরও  কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতু বা   ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস আজও মেলেনি। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করার বিষয়টি জানা যায় । ত্রিমোহিনী বাজার কমিটির সভাপতি জানান, বাঁশের সাঁকোটি এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে শ্রম ও অর্থ দিয়ে তৈরি করেছে। সেটিও এখন দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে । জীবনের ঝুঁকির মধ্য  দিয়েই এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে।ত্রিমোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল বাসার বলেন, কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে সহজে ওপারের শিক্ষর্থীদের এপারে এসে লেখাপড়া করতে সুবিধা হবে।এ বিষয়ে ত্রিমোহিনী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান জানান,কপোতাক্ষ নদের ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবী করে আসছে। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণের পাশাপাশি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানান। স্থানীয় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কর্মকর্তা বলেন, ত্রিমোহনীর কপোতাক্ষ নদের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করার বিষয় মাপযোগ করা হয়েছে অনেক বার। কিন্তু যশোর- সাতক্ষীরার দুই জেলার রশি টানা টানিতে বাধাগ্রস্ত হয়ে রয়েছে। কপোতাক্ষর নদের উপর একটি সেতু নির্মিত হলে কেশবপুর ও কলারোয়া উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা মান পাল্টে যাবে। সবমিলিয়ে, স্থানীয় কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি কপোতাক্ষ নদের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য। ডিজিটাল বাংলার রূপকার  জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি  কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ।
0 Comments