মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ভিসানীতি : ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কতখানি?

অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: শুক্রবার, মে ২৬, ২০২৩

মার্কিন ভিসানীতি : ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কতখানি?
বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যারা বাধা দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা অন্তরায় হবেন তাদের ভিসা দেবে না বলে এক ঘোষণায় জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার দেওয়া মার্কিন নতুন এ নীতি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলেছে। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকরা বলছেন, নতুন ভিসানীতি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এখনই কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

বেসরকারি সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র ভিসানীতিতে যেসব শর্ত বা বিধি নিষেধ দিয়েছে তার প্রভাব দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বা তৈরি পোশাক খাতে পড়ার সম্ভাবনা নেই। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, ওই দেশের জন্য তা খুব বড় অঙ্ক নয়। বেশিরভাগ পণ্য তৈরি পোশাক। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের পোশাকের মান ভালো, দাম কম। আমেরিকার জনগণ কম দামে ভালো পোশাক পায় বলে তারা কিনে থাকে। এছাড়া তাদের সঙ্গে আমাদের বেশিরভাগ বাণিজ্য বেসরকারি পর্যায়ের। যারা আমাদের পণ্য নিয়ে বিক্রি করে তারা বড় প্রতিষ্ঠান। তাদের লাভের জন্য পণ্য নেয়। তাই বাংলাদেশ বিষয়ে নতুন ভিসানীতি বাণিজ্যে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ হাজার ২০৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪২ কোটি ডলারের পণ্য। এর মধ্যে তৈরি পোশাকের পরিমাণ ছিল ৯০১ কোটি ডলারের বা ৮৬ শতাংশ। এ ছাড়া ৩১ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া তৈরি পোশাকের ২১ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইলের ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তা ক্ল্যাসিক ফ্যাশন কনসেপ্টের এমডি ও তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদউল্লাহ আজিম বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে এটা পলিটিক্যাল বিষয়, ব্যবসায়ীরা সবাই এই পলিটিক্সের সঙ্গে জড়িত নয়। তাই এটা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য তেমন নেতিবাচক কিছু হবে বলে আমি মনে করছি না। এখন যদি কোনো ব্যবসায়ী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে সমস্যায় পড়ে, সেটি আলাদা বিষয়। সাধারণ ব্যবসায়ীদের কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, তবে দীর্ঘ মেয়াদি কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন এখনই আমেরিকার ভিসা পেতে অনেকের এক বছর লেগে যায়। আগামীতে এই ধরনের জটিলতা আরও বাড়তে থাকবে। তারা যদি যাচাই-বাছাই করে ভিসা দিতে দেরি করে তাহলে অনেক ক্রেতার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে মিটিং করা যাবে না। সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।  

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিষয়ে যে ভিসানীতি গ্রহণ করেছে এটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর তাদের নীতিতে ব্যবসায়ীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কথা বলা হয়নি। তাই এটি রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না। যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে কিছু বলেনি তাই আমরাও এসব বিষয়ে কথা বলতে চাই না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে সরকার।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রয়োজনে আমাদের পণ্য নেয় তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত আমাদের বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না জানিয়ে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি করি তা বিশ্বের সবচেয়ে ভালো পণ্য। বিশ্বমানের এ পোশাক আমরা তাদের যে দামে দিই তা অন্য কোনো দেশ দিতে পারবে না। এটি তাদের প্রয়োজন। তাই আমাদের কাছ থেকে নেয়। এজন্য আলাদা কোনো বেনিফিট আমাদের দেয় না। তাই নতুন যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এটা ব্যবসা-বাণিজ্য বা আমদানি-রপ্তানিতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রপ্তানি বেশি এবং আমদানি কম হওয়ায় আমাদের বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত থাকে। যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করে। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখন সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসছে।
 
বাংলাদেশ ২০২১-২২ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১ হাজার ৪২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে আমদানি করেছে মাত্র ২৮৩ কোটি ডলারের পণ্য।

প্রবাসী আয়ে বরাবরই শীর্ষে থাকত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে সবশেষ দুই অর্থবছরে আরব আমিরাতকে হটিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ৩০৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। সৌদি আরব থেকে এসেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
0 Comments